ঢাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আকস্মিক মহড়া, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হঠাৎ উপস্থিতি ও মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

রোববার রাতে শাহবাগ থানায় পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান

রোববার রাতে শাহবাগ থানায় পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান

রোববার (২২ মার্চ) রাতে শাহবাগ থানায় অবস্থান নিয়ে সংগঠনটির নেতারা পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

ঈদের ছুটির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারসহ মিছিল করার ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংগঠনটির দাবি, এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দের মাঝেও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে মিছিল করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।

জাহিদ আহসান আরও বলেন, যারা এই মিছিলে অংশ নিয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়—এমন তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, বহিরাগতরা কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ পেল।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিভিন্ন আইনি জটিলতা এড়িয়ে জামিনে বের হয়ে আসছে, যা বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বলেন, অতীতে সংঘটিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা দাবি করেন, যে কোনো নাশকতামূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আপনি কি এই ঘটনার সাথে একমত? অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post