সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করতেই তার এই সংক্ষিপ্ত বাংলাদেশ সফর।
হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি যৌথ বৈঠকে অংশ নেবেন ওয়ালিদ এল-খেরেজি।
এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে—
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়েও আলোচনা
সৌদি আরব সফর শেষ করার আগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-র সঙ্গে বৈঠক করবেন সৌদি উপমন্ত্রী।
এই বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ, ভিসা এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। দেশটিতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ধর্মীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে।
এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিশেষ করে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment